বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ক একক বক্তৃতা পাঠের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন।


প্রকাশন তারিখ : 2019-09-02

   

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ক বক্তৃতা পাঠের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। বছরব্যাপী বক্তৃতা অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আজ জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ক একক বক্তৃতা পাঠ। এই বক্তৃতা অনুষ্ঠানে মতিঝিল আইডিয়ায় স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীগন অংশগ্রহণ করেছেন। আমন্ত্রিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ে একক বক্তৃতা করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা লে: কর্নেল (অব:) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক)। বক্তৃতা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক জনাব মো. রিয়াজ আহম্মদ

স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. আবদুল মজিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে আজকে আমরা আয়োজন করেছি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ে বক্তৃতা অনুষ্ঠান। অনুস্থানে একক বক্তৃতা দিবেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪নং সেক্টরের (সিলেট অঞ্ছল) একজন গেরিলা যুদ্ধের অধিনায়ক হিসেবে এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় গুলন্দাজ বাহিনীর হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আজকের এই সেমিনারের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার জীবন-কর্ম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নামের স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ গঠনে জাতির পিতার অবদান সম্পর্কে অনেক জানা অজানা কথা জানতে পারব।

প্রধান বক্তা বীরমুক্তিযোদ্ধা লে: কর্নেল (অব:) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক) বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙলী জাতি মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাগ্রত হয়। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।এরই পরিক্রমায় ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালি হত্যাযজ্ঞ শুরুর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদা সম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু তাঁর পথ চলা আর বেশিদিন দীর্ঘ হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। এজন্যই বর্ষপঞ্জির কালো পৃষ্টার নাম আগস্ট মাস। আগস্ট এলেই বাঙালি শোকে মুহ্যমান হয়, আতংকও ঘিরে ধরে আমাদের। আগামী ২০২০ সালে পূর্ণ হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম তারিখ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিব বর্ষ পালিত হবে।

সভাপতিত্ব বক্তব্যে জনাব মো. রিয়াজ আহম্মদ বলেন, বাংলাদেশ ও বাঙালির সবচেয়ে হদয়বিদারক ও শোকের দিন ১৫ আগস্ট। ৭৫এর নির্মম হত্যাকাণ্ড বঙ্গবন্ধুকে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনকে মুছে দিতে পারেনি। বাংলার মানুষ তাকে আগেও যেমন ভালোবেসেছে আজও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির কাছে চিরস্মরণীয় এক নাম। বাঙালির প্রেরণার নাম। যিনি না থেকেও বাংলার মানুষের হূদয়ে বেঁচে আছেন মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু হয়ে।


Share with :

Facebook Facebook