বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ মে ২০১৯

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ‘শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক: গণতন্ত্র ও জনমানুষের নেতা’ শীর্ষক সেমিনার।


প্রকাশন তারিখ : 2019-04-03

     

ঢাকা, ০৩ এপ্রিল ২০১৯। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক: গণতন্ত্র ও জনমানুষের নেতা শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক জনাব নজরুল কবীর। সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকেন জি টিভি ও সারা বাংলার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াজ রেজা, স্থাপতি রবিউল হুসাইন, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার এবং বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও রাজনীতিবিদ জনাব নূহ-উল-আলম লেলিন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান

স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ  জাতীয় জাদুঘরকে ১৪ জন বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের জন্ম/মৃত্যু বার্ষিকী পালনের নির্দেশনা প্রদান করেছে। তার অংশ হিসেবে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক: গণতন্ত্র ও জনমানুষের নেতা শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন। তিনি বলেন এই আয়োজন সকলের জন্য, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে জনাব নজরুল কবীর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক-এর শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, প্রকাশনা, নীতি-আদর্শ-দর্শন সহ জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাঙালি রাজনীতিবিদ ও জননেতা। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কুটনীতিক হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট ‘শের-এ-বাংলা’ এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত। তিনি ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদ অধিষ্ঠান করেছেন: অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ইত্যাদি। তিনি ছিলেন যুক্তফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা। বাংলার শিক্ষা, সামাজিক অধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য সকল ক্ষেত্রে শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের রয়েছে অসমান্য অবদান। তিনি বুঝতে পারেন একমাত্র শিক্ষার অভাবেই পদে পদে এদেশের মানুষ অবহেলিত হচ্ছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি শিক্ষার প্রতি ব্যাপক জোর দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ফজলুল হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তিনি মুসলমানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেন। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন উদার ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে ফজলুল হকের অসাধারণ নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এক কথায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক শুধু একটি নাম নয়, তিনি একটি ইতিহাস। তার মহান ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক দর্শন তাকে অল্প সময়ে করে তোলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত।

আলোচনায় সৈয়দ ইশতিয়াজ রেজা বলেন, ভারত সুহৃদ পত্রিকা প্রকাশের মধ্যে দিয়েই শের-এ-বাংলার রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি ও দেশকাল সম্পর্কে অনেক সচেতন হয়ে পড়েন। তিনি আরো বলেন, ফজলুল হক ছিল আপোষহীন সংগ্রামের প্রতীক, সর্বপ্রকার সামাজিক অবিচার, অসম্মান ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছিলেন এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাঁর প্রচেষ্টায় রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ-সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে নবযুগের সূচনা হয়।

স্থপতি রবিউল হুসাইন বলেন,  তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন মানুষ ছিলেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। দেশ তথা একটি জাতির উন্নয়নের জন্য তাঁর অবদান অপরিসীম। বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য তার অসীম মমত্ববোধ ও ভালোবাসা এদেশের মানুষকে চিরদিন অনুপ্রাণিত করবে।

জনাব নূহ-উল-আলম লেলিন বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার কিংবদন্তীর নায়ক। তিনি ছিলেন ছাত্র শিক্ষকের নায়ক, রাজনীতিবিদদের নায়ক। সংগ্রামী জনতার কাছে একজন বীরশ্রেষ্ঠ বাঙালি। জমিদার মহাজনদের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র কৃষকদের বাঁচানোর জন্য প্রতিষ্ঠা করেন তার বিখ্যাত ঋণ সালিশি বোর্ড। দেশে ন্যায় বিচার, সত্য বলার জন্য সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা দেয়া হয়। এজন্য এ.কে ফজলুল হকের প্রধানমন্ত্রীত্বের কালকে ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার বলেন, বহুমাত্রিক এই মানুষটি সাধারন মানুষের কথা ভাবতেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল বাংলার সাধারণ মানুষকে কেন্দ্র করে। কিভাবে পিছিয়ে পরা বাংলার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা যায় সেই লক্ষ্যেই কাজ করতেন তিনি। বাংলার রাজনীতিতে মেধার সঞ্চালন তাঁর মাধ্যমেই হয়।

সভাপতির ভাষণে শিল্পী হাশেম খান প্রথমেই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রবন্ধকার জনাব নজরুল কবীরকে তাঁর এই অসাধারণ প্রবন্ধের জন্য। তিনি আরো বলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবনের প্রত্যেকটা বিষয় অত্যান্ত সুগঠিত ভাবে তাঁর প্রবন্ধে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই না, অবদান ছিল বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে। মানুষের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজসংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন মহান এই ব্যক্তি। বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য তার অসীম মমত্ববোধ ও ভালোবাসা এদেশের মানুষকে চিরদিন অনুপ্রাণিত করবে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপনে মো. আবদুল মজিদ শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হককে গভীর শ্রদ্ধা জানান এই মহান দেশপ্রেমিক মানুষটিকে এবং উপস্থিত সকলকে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।


Share with :

Facebook Facebook