বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষ্যে স্মরণ সভার আয়োজন।


প্রকাশন তারিখ : 2019-12-14

     

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক স্মরণ সভা আয়োজন করে। সভায় সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও মানবতাবাদী নেত্রী এডভোকেট সুলতানা কামাল, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীর প্রতীক এবং একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীর কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী।

স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক জনাব মো. রিয়াজ আহম্মদ বলেন, আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিনটি এমন একটি বিশেষ দিন, যে দিন বাংলাদেশ তথা বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে। বাঙালী জাতিকে দাবিয়ে রাখার জন্য, দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করার জন্য বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে তারা মরণ কামড় দেয়। প্রতি বছরের মত এ বছরও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করছে।

সম্মানিত আলোচক ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, আমার বাবা ছিলেন বিলেত ফেরত একজন চোখের ডাক্তার। শুধুমাত্র দেশকে ভালোবেসে, দেশের কল্যাণের জন্য এ দেশের মানুষের চিকিৎসার করার জন্য তিনি সুদূর বিলেত থেকে চলে আসেন। কিন্তু আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করে রাজাকার-আলবদর বাহিনী। আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। আমাদেরকে শত্রু-মিত্র চিনতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি কে দমন করার দায়িত্ব আমাদেরই।

লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতি মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাগ্রত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে পাকিস্তান বাহিনী যখন বুঝতে শুরু করে যে তাদের পক্ষে যুদ্ধে জেতা সম্ভব না, তখন তারা নবগঠিত দেশকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে দূর্বল এবং পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানী বাহিনী তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সহায়তায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিজ নিজ গৃহ হতে তুলে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। তাই ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে পাওয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে কেননা দেশকে উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের সকলের। 

এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, যারা আমাকে সমাজসেবা করার দীক্ষা দিয়েছিলেন, তাদের অনেকের ক্ষত-বিক্ষত ও বিকৃত লাশ রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে দেখেছি। আজকে তাদেরকে নিয়ে কথা বলার আমার জন্য অনেক বেদনার। মুক্তিযুদ্ধটা হয়েছিলো সবার মুক্তির জন্য একটা সম্মিলিত সংগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে রূপান্তরে যে মানুষটি ভূমিকা রেখেছিলো তিনি আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদী নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।


Share with :

Facebook Facebook