বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৪ August ২০১৯

‘দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ক সেমিনার ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।


প্রকাশন তারিখ : 2019-08-03

    

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৯ পালন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হলো এবং শুরু হলো জাদুঘরে সংগৃহীত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন নিয়ে মাসব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারে উপস্থিত থাকেন এবং বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান। 

স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক জনাব মো. রিয়াজ আহম্মদ বলেন,  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম, একটি ইতিহাস। বাংলার ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় দিন ১৫ আগস্ট; ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল। প্রতিবছর আগস্ট মাস আসে বাঙালির হৃদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে। বাঙালি জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করে। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা অনেক অজানা কথা জানতে পারবো, অনেক দুর্লভ জিনিসের প্রদর্শনী দেখতে পারবো। যেগুলো আমাদেরকে দেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাসনভার গ্রহণ করেই দেশগঠনে অহোরাত্র কাজ আরম্ভ করেন। ১২ই জানুয়ারি, ১৯৭২ বঙ্গবন্ধু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সেদিন থেকেই শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর শাসনামল। দেশগঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতিগুলো হচ্ছে- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ১৩ই জানুয়ারি, ১৯৭২ বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, রণসঙ্গীত নির্ধারণ করা হয়। দেশের পুনর্গঠনে সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, মদ-জুয়া প্রভৃতি অসামাজিক কর্ম দমন, মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের পুনর্বাসন ও কল্যাণে ট্রাস্ট গঠন, কৃষি-শিল্পের সম্প্রসারণ, ব্যাংক-বিমা জাতীয়করণ, শ্রমিক কল্যাণ, ১২১টি দেশের স্বীকৃতি অর্জন করে। এছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য লাভ।  বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদা সম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা তাদের আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিলো। তারপরও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক, তাঁরই তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আলোকবর্তিকা হয়ে আমাদের পথ দেখাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশগঠন একদিন সুসম্পন্ন হবেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ এমপি বলেন, বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। তাঁর কন্ঠেই ৭ মার্চ ধ্বনিত হয়েছিল ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ যা স্বাধীনতা অর্জনের বীজমন্ত্র হিসেবে বিবেচ্য। তিনি যখন জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে আত্নপ্রকাশ করতে থাকেন ঠিক সে সময়ই ১৯৭৫-এর আগস্ট মাসের ১৫ তারিখে বাঙালির স্বাধীনতার ধ্বংসকামী ও মানবতার শত্রুদের একদল নরপশু দ্বারা নির্মম ও নৃশংসভাবে পরিবারবর্গসহ তিনি শহীদ হন। দেশ হারায় বিশ্বের এক মহানায়ককে। বাঙালি এই বীরের অসামান্য অর্জন কখনো ম্লান হবার নয়। বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ভাষা-সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের ইতিহাস রক্ষায় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে জাতির পিতার ত্যাগ, আদর্শ ও অবদানকে সর্বকালে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে।   

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি, বাঙালির আপসহীন নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শুধু আনুষ্ঠানিকতার বৃত্তে বন্দী না থেকে চিন্তা, মনন ও কর্মে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই তাঁর আরাধ্য সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাঁর স্বপ্নের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সমতাভিত্তিক সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার।

সভাপতির ভাষণে শিল্পী হাশেম খান প্রথমেই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রবন্ধকার অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর কে তার এই অসাধারণ প্রবন্ধের জন্য। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধু আজ নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঙালীরা ধারন করে এই দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দার করানর জন্য কাজ করে চলছে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপনে মো. আবদুল মজিদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানান এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন, আলোকচিত্র, পেইন্টিং এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রকাশিত গ্রন্থের ওপর বিশেষ প্রদর্শনীটি চলবে ৩১ আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত।


Share with :

Facebook Facebook