বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ মে ২০১৯

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে মহান বিজয়দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, বিজয়ের কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও বিজয়ের গান অনুষ্ঠানের আয়োজন।


প্রকাশন তারিখ : 2018-12-16

    

ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮। মহান বিজয়দিবস ২০১৮ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয় । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর সভাপতি শিল্পী হাশেম খান।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে জাদুঘরে সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, মুক্তিযুদ্ধকালীন সংবাদপত্র ও মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্রের (১৫ দিন) ব্যাপী এক বিশেষ প্রদর্শনির উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনির উদ্বোধন করেন বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম ও বরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, আমাদের সবচেয়ে প্রিয় দিবসটি হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়দিবস। একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে যুদ্ধে জয় লাভ করি। তাই এদিন আমাদের সকলের অতি প্রিয়, অতি আনন্দের দিন। হাজারও রকম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়দিবস পালন করা হয়। বিজয়দিবসের এই দিনে নানা কিছু আমাদের হৃদয়ে ভেসে উঠে। তাই এমন ধরনের প্রদর্শনী আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় , কতটা কষ্ট এবং ত্যাগের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি আমাদের এই স্বাধীন ভূখণ্ড।

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সাহিত্যিকদের ভুমিকা ছিল অপরিসীম। তাঁরা তাঁদের গানে, কবিতায়, লেখার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের জাগ্রত করতেন, সাহস যোগাতেন। আমাদের মনে রাখতে হবে দেশের স্বাধীনতা কারো একক অবদানে আসেনি। সকলের সম্মিলিত আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা।

স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, আজ ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির জীবনে এক পরমানন্দের দিন, শৃঙ্খল ভাঙার দিন,স্বাধীন আকাশে মুক্ত পাখির মতো উড়ে বেড়াবার দিন । আজকে স্বাধীনতার এই দিনে দাড়িয়ে স্মরণ করছি আমাদের আত্মত্যাগী ভাইবোনদের যারা তাদের প্রাণের বিনিময়ে ফিরিয়ে এনেছেন আমাদের মাতৃভূমি। প্রতি বছরের মতো এ বছরও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করছে| এতে করে আমাদের bZyb cÖR‡b¥র মানুষেরা আমাদের দেশ, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের সেই বীর সন্তানদের সম্পর্কে জানতে পারবে|

সভাপতির ভাষণে শিল্পী হাশেম খান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে কবিদের কবিতার মাধ্যমে বাঙালির অধিকার, মানবতা চেতনা, দেশপ্রেমকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। একাত্তরের এক একটা কবিতা ছিল, এক একটা মেশিন গান। কবিতা গুলোই বাঙালি জাতি তথা মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ করতে প্রেরণা জুগিয়েছিল। পাকিস্তানি শোষণ-বঞ্চণামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়েই একাত্তরে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। বিজয়দিবস মানে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন। দীর্ঘ ৪৭ বছরেও সেই আনন্দের এতটুকু কমতি নেই। আমরা শপথ করি এই দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো এবং একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করব।

আলোচনা শেষে দেশের বিশিষ্ট কবিদের স্বকন্ঠে বিজয়ের কবিতা পাঠ, বিশিষ্ট বাচিকশিল্পীদের উচ্চারণে বিজয়ের কবিতা আবৃত্তি ও বিজয়ের গানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিজয়ের অনুষ্ঠান। শ্রোতারা বিমোহিত হয়ে কবিতা, গান উপভোগ করেন।

 


Share with :

Facebook Facebook